Showing posts with label history. Show all posts
Showing posts with label history. Show all posts

Sunday, 11 May 2025

লবন থেকে লক্ষ্মী- পলাশীর নন্দীদের জমিদারী উত্থানের গল্প

 লবন থেকে লক্ষ্মী- পলাশীর নন্দীদের জমিদারী উত্থানের গল্প

রূপেশ কুমার সামন্ত






















ভূমিকা

কাশিজোড়ার ধান, ময়না রাজার মান।

কুচোল ঘোড়ইয়ের পাকা, দে-নন্দীর টাকা।

পলাশীর নন্দী বাড়ির অঢেল ঐশ্বর্যকে ইঙ্গিত করেই প্রবচনের আপ্তবাক্যের ‘নন্দীর টাকা’ অংশটি প্রতিষ্ঠিত। উনবিংশ শতকের গোড়ায় উদীয়মান ব্যবসায়িক পরিবার নন্দীরা লবন ব্যবসার উপর ভিত্তিক করে প্রভূত অর্থ উপার্জন করেছিল। তখন ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসন। শাসকের কৃপা ও অর্থ-বলের মেলবন্ধনে কিভাবে অর্থ নামক ‘চঞ্চলা লক্ষ্মী’কে বশিভূত করে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’কে উপচে ফেলতে হয়, তা নন্দীরা ভাল জানত। তাঁরা লবন ব্যবসার অর্থকে বিনিয়োগ করে জমিদারী ক্রয় করলেন। নন্দী পরিবারের সুযোগ্য সন্তান শ্রীনাথ নন্দী ও দীনবন্ধু নন্দী ডেবরার পলাশীতে গড়ে তুললেন জমিদারী সাম্রাজ্য। ফুলেফেঁপে উঠল জমিদারী ‘রাজকোষ’। তাঁরা গড়ে তুললেন বিরাট জমিদারী সাম্রাজ্য, বিলাসবহুল বাড়ি, রাজকীয় মন্দির, অনিন্দ্যসুন্দর রাসমঞ্চ। তৎকালীন দারিদ্র-পীড়িত সমাজের মাঝে নন্দী বাড়ির রাজকীয় বৈভব মানুষের মননে রূপকথার গল্প হিসাবে স্থান করে নেয়। আর প্রবচন হয়ে ঘুরে বেড়ায় মানুষের মুখে মুখে।


নন্দীদের জমিদারী প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

১৭৯৩ সালে ভারতের তৎকালীন গভর্ণর জেনারেল লর্ড কর্ণওয়ালিশ ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ প্রবর্তন করেন। এর ফলে বাংলার রাজস্ব বিভাগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সাধিত হয়। নতুন এই বন্দোবস্ত অনুযায়ী, জমিদারদের সঙ্গে বার্ষিক রাজস্ব নির্ধারিত হারে স্থায়ীভাবে চুক্তি সম্পাদিত হয়। সেই রাজস্বের পরিমান পূর্ববর্তী দশসালা বন্দোবস্তের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। ফলে জমিদারদের একটি অংশ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট করের বোঝা বহন করে জমিদারী ধরে রাখার কাজটি কঠিন ছিল। উপরন্তু, খরা, বন্যা বা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য কর পরিশোধে কোন ছাড় ছিল না। ফলস্বরূপ, তাৎক্ষণিকভাবে অনেক জমিদারের কর বকেয়া পড়ে যায়। বকেয়া জমিদারির জমি নিলামে তোলার কোম্পানির নীতির ফলে জমির বাজার তৈরি হয়। বর্ধিত করের বোঝা মেনে নিয়ে কিছু প্রাচীন জমিদার তাঁদের জমিদারি রক্ষা করতে সক্ষম হন। কিন্তু অনেকে কর দিতে অসম্মত হওয়ায় বা অপারগ থাকায় তাঁদের জমিদারি বাজেয়াপ্ত হয়। ঠিক এই সময়েই গড়ে ওঠে এক নতুন শ্রেণির জমিদার—যাঁরা বিভিন্ন পেশার মাধ্যমে বিপুল অর্থ সঞ্চয় করে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছ থেকে জমিদারি বন্দোবস্ত গ্রহণ করেন। কেউ কেউ আবার জমিদার বা তালুকদারদের কাছ থেকে জমিদারী বন্দোবস্ত নিয়ে অথবা সরাসরি জমিদারি কিনে জমিদার হয়ে ওঠেন। এই নতুন জমিদার শ্রেণির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন মেদিনীপুর শহরের জন্মেজয় মল্লিক, মালিঘাটির ছকুরাম চৌধুরী এবং পলাশীর শ্রীনাথ নন্দী ও দিনবন্ধু নন্দী। এই নতুন জমিদার শ্রেণি বাংলার সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচনা করেছিলেন।


জমিদারী প্রতিষ্ঠা

নন্দী পরিবারের আদি নিবাস ছিল বর্তমান পশ্চিম মেদিনীপুরের আনন্দপুর গ্রামে। সেই সময় রেশম শিল্পে উন্নতির কারণে আনন্দপুর মেদিনীপুর জেলার মধ্যে অত্যন্ত গূরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। রেশম শিল্পের সেই রমরমা বাজারেও দূররদর্শী নন্দী পরিবার রেশম ব্যবসার সাথে যুক্ত হয়নি। তাঁরা করতেন মানুষের অতি প্রয়োজনীয় ও নিত্য-ব্যবহার্য লবনের ব্যবসা। ১৮শ শতকের মাঝামাঝি থেকে ইংল্যান্ডে শুরু হয় শিল্প বিপ্লব, যা পরে পুরো ইউরোপ ও আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়ে। এই বিপ্লবের ফলে ইউরোপীয়দের প্রচুর কাঁচামাল ও নতুন বাজারের প্রয়োজন দেখা দেয়। তারা উপনিবেশ থেকে সেই কাঁচামাল সংগ্রহ করা এবং সেখানে নিজেদের তৈরি পণ্য রপ্তানি করার নীতি গ্রহন করে। সেই সময় কোম্পানি ভারতীয় লবণ উৎপাদন নিষিদ্ধ করে বিদেশ থেকে কল-কারখানায় প্রস্তুত লবণ আমদানি করার নীতি নেয়। লবণ বোঝাই জাহাজ এসে ভিড়ত কলকাতার বন্দরে। নীলামে ডাকা সেই লবণ সংগ্রহ করে, বস্তাবন্দী করে বাজারজাত করাই ছিল নন্দী পরিবারের দায়িত্ব। তাঁদের কলকাতার ব্যবসা কেন্দ্র ছিল ২ নং অহিরীটোলা স্ট্রিট। লবণ পরিবহনে সুবিধা পাওয়ার জন্য তাঁরা আনন্দপুর ছেড়ে প্রথমে চলে আসেন ডেবরার ডাররা গ্রামে। তারপর সেখান থেকে চলে আসেন কাঁটাপুকুরে। এই স্থানান্তরের মূল কারণ ছিল কলকাতা থেকে মেদিনীপুর অঞ্চলে লবণ পরিবহনের সুবিধা, যা তখন জলপথেই সবচেয়ে সহজ ছিল। পলাশী গ্রামের পাশ দিয়ে চলে গেছে মেদিনীপুর খাল। সেই সময়ের যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ ছিল এই খাল। লবণ ব্যবসা থেকে বিপুল মুনাফা অর্জন করেছিলেন নন্দীরা। লবন ব্যবসার সূত্রে ব্রিটিশদের সাথে যোগাযোগের সুবাদে শ্রীনাথ নন্দী ও দীনবন্ধু নন্দী অর্থ বিনিয়োগ করে তাঁদের জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পলাশী গ্রামে গড়ে তুললেন স্থায়ী জমিদারী বসতি। পলাশী গ্রামটি পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা থানার অন্তর্গত। এই পলাশী গ্রামে আজও রয়েছে সেই জমিদারী বাড়ি, রাজকীয় লক্ষ্মী-জনার্দন মন্দির, রাসমঞ্চ ও ধ্বংসপ্রায় বিশাল নাটমন্দির। 

জমিদার পরিবার

পলাশীতে জমিদারী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শ্রীনাথ নন্দী ও দিনবন্ধু নন্দী। জমিদার পরিবারের বংশলতিকা বিশ্লেষণ করে জানা যায়, দুই পুরুষ আগে জমিদার পরিবারের সর্বোচ্চ পুরুষ ছিলেন গোবিন্দ চরণ নন্দী। তাঁর পুত্র ছিলেন যুগল বিহারী নন্দী। যুগল বিহারীর দুই পুত্র ছিলেন- পুরুষোত্তম ও গোলক মোহন নন্দী। পুরুষোত্তমের একমাত্র পুত্র ছিলেন শ্রীনাথ। অন্যদিকে গোলক মোহনের একমাত্র পুত্র ছিলেন দীনবন্ধু। এই শ্রীনাথ নন্দী ও দীনবন্ধু নন্দীর হাত ধরেই জমিদারী প্রতিষ্ঠা। শ্রীনাথ নন্দীর পুত্র ছিলেন নবদ্বীপ নন্দী। নবদ্বীপের দুই পুত্র ছিলেন- কিশোরী রঞ্জন ও শান্তভূষণ। কিশোরী রঞ্জন ছিলেন নিঃসন্তান। শান্তভূষণের ছিল পাঁচ পুত্র- ব্রজদুলাল, রামদুলাল, সুহৃদ কুমার, প্রণব কুমার ও প্রাণ কুমার। ব্রজদুলালের পুত্র ছিলেন দেবাশীষ নন্দী। অপর দিকে দীনবন্ধু নন্দীর দুই পুত্র ছিলেন অধরচাঁদ এবং রাইচরণ। এদের মধ্যে রাইচরণ ছিলেন নিঃসন্তান। অধরচাঁদের চার পত্নীর মধ্যে প্রথমা পত্নীর সন্তান ছিলেন নীরদ বরণ এবং চতুর্থ পত্নীর সন্তান ছিলেন ননীগোপাল। বাকি দুই পত্নীর কোন সন্তান ছিল না। নীরদ বরণের দুই পুত্র ছিলেন অমলেন্দু ও বিমলেন্দু। অমলেন্দুর তিন পুত্র ছিলেন প্রদীপ, সপ্তদীপ ও সন্দীপ। বিমলেন্দুর পুত্র ছিলেন কৃষ্ণেন্দু। অপরদিকে, ননীগোপালের পুত্র ছিলেন শুভেন্দু এবং তাঁর পুত্র ছিলেন সংলাপ।

মন্দির স্থাপন

জমিদারী বসত বাড়ির পূর্বদিকে নির্মিত হয়েছে লক্ষ্মী-জনার্দন মন্দির। রাজকীয় মন্দিরটি জমিদারী বৈভবের বহিঃপ্রকাশ। পূর্বমূখী মন্দিরটি নির্মিত হয়েছে দালান রীতিতে। উঁচু ভিত্তিবেদীর উপর প্রতিষ্ঠিত আয়তকার মন্দিরটি খিলান রীতিতে নির্মিত তিনটি প্রবেশ দ্বার যুক্ত। প্রবেশ দ্বারের পরেই রয়েছে প্রসারিত অলিন্দ। অলিন্দের পেছনে রয়েছে তিনটি কক্ষ। মাঝের গর্ভগৃহে রয়েছে দেবতার অধিষ্ঠান। মন্দিরের সামনের দেওয়ালে অনিন্দ্যসুন্দর নানান টেরাকোটা ফলক এখনও বিদ্যমান। টেরাকোটা ফলকে দৃশ্যমান দেবী দশভূজা, বংশীবাদন রত শ্রীকৃষ্ণ, দশাবতার, বাজনা বাদক ও নানান সামাজিক দৃশ্য। মন্দিরের শীর্ষে রয়েছে গরুড় মূর্তি।  


নাটমন্দির

মন্দিরের সামনে পূর্বদিকে ছিল দোতলা-সম বিরাট নাটমন্দির। বিশাল বিশাল গোলাকৃতির থামের মাথায় সমতল ছাদ দিয়ে নাটমন্দিরটি তৈরি হয়েছিল বলে জানা যায়। সেই নাটমন্দিরটি বর্তমানে ধ্বংসপ্রায়। ধ্বংসপ্রাপ্ত গোলাকার থামের শেষ চিহ্ন গুলি এখনো দেখা যায়। চারিদিকে বিশাল উঁচু প্রাচীর এখনও বিদ্যমান। নাটমন্দিরের দক্ষিণ-পশ্চিম কোনে একটি অব্যবহৃত প্রসস্থ সুড়ঙ্গ রয়েছে। বাহ্যিক ভাবে এখনও দৃশ্যমান সেই সুড়ঙ্গটি দোতলা থেকে মাটির নিচে নেমে এসেছে। সুড়ঙ্গটি নিয়ে নানান রহস্য-গল্প লোকমুখে আজও প্রচারিত।  


বিগ্রহ ও পুজার্চনা

জমিদার বাড়ির লক্ষ্মী-জনার্দন মন্দিরে লক্ষ্মী-নারায়ণের কোন বিগ্রহ নাই। শালগ্রাম শিলাই তাঁর বিগ্রহ হিসাবে পুজিত হন। পুজার্চনার জন্য প্রায় সমূহ জমিদারী সম্পত্তি দেবতার নামে উৎসর্গ করে দিয়েছিল জমিদার পরিবার। জমিদারীর বিপুল অর্থে একটি রাজকীয় মন্দির নির্মান করে ছিলেন তাঁরা। বিভিন্ন পার্বন ও নিত্যপুজায় বিপুল অর্থ ব্যয় করত জমিদার পরিবার। ফলে প্রতিটি পার্বন হত অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ। স্বাধীনতার পরে দেবত্ত্বর সম্পত্তি খাস হয়ে যাওয়ায় ভাঁড়ারে টান পড়ে। বর্তমানে জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে না হলেও দিনে তিনবার নিত্যপুজা হয় এখানে। সকালে ফলমুলের সাথে মিষ্টান্নের বাল্যভোগ দেওয়া হয়। দুপুরে লুচি ও তিনটি ভাজা সহ ভোগ দেওয়া হয়। রাতে লুচি ও ক্ষীর ভোগ নিবেদন করা হয়। বিভিন্ন বার্ষিক পার্বনে যথা সম্ভব জাঁকজমক বজায় রাখা হয়। এখানে শ্রাবন মাসের শুক্লা ত্রয়োদশী থেকে তিন দিনের ঝুলনযাত্রা হয়। ভাদ্রমাসে পালিত হয় জন্মাষ্টমী ও রাধাষ্টমী। কার্তিক মাসের পূর্ণিমায় এখানে রাস উৎসব হয়। এজন্য সুদৃশ্য ও রাজকীয় এক রাসমঞ্চও রয়েছে। এই উৎসব বিশ দিন যাবৎ চলে। রাস উৎসবের পূর্বে পালিত হয় গোবর্ধন যাত্রা। পৌষ সংক্রান্তিতে পালিত হয় মকর। এছাড়াও ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমায় পালিত হয় দোল উৎসব।


জমিদারী উচ্ছেদ

জমিদারী উচ্ছেদ ভারতের স্বাধীনতা-পরবর্তী এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে কৃষকদের জমির মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং জমিদারদের শোষণমূলক প্রথার অবসান ঘটে। ১৭৯৩ সালে ব্রিটিশদের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রথার মাধ্যমে যে জমিদার শ্রেণির উত্থান ঘটে, তা ভারতে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সাথে সাথে চিরস্থায়ী বিলুপ্তির পথে যাত্রা শুরু করে। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন রাজ্যে বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে ১৯৫৩ সালের 'Estates Acquisition Act'-এর মাধ্যমে জমিদারদের অতিরিক্ত জমি সরকার অধিগ্রহণ করে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করে এবং ভূমির মালিকানা তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এইভাবে উনবিংশ শতকের গোড়ায় পলাশীর শ্রীনাথ ও দীনবন্ধু নন্দীর হাত ধরে গড়ে ওঠা পুরুষানুক্রমের জমিদারী স্বাধীন ভারতে উচ্ছেদ হয়ে যায়। জানা যায়, জমিদারী উচ্ছেদের ফলে বিপুল পরিমান দেবোত্তর সম্পত্তি খাস হয়ে যাওয়ায় সরকার থেকে মাত্র ১১,১৪৪ টাকা বার্ষিক ভাতা ধার্য্য করা হয়। এই অর্থে আর জমিদারী বৈভব বজায় রাখা সম্ভবপর ছিল না। ধীরে ধীরে রাজকীয়তার পলেস্তারা খসতে থাকে। ভেঙে পড়ে বিশাল নাটমন্দির। একসময় সেখানে বসত জমিদারী বিচার সভা। নাট্যমঞ্চে পরিবেশিত হত নাটক, নৃত্য, যাত্রা। তবে আজও প্রবচনের ‘নন্দীর টাকা’র জোরকে সত্য প্রমান করে দাঁড়িয়ে আছে জমিদারী বাড়ি, রাজকীয় মন্দির ও রাসমঞ্চ।

তথ্যসূত্রঃ

১। লক্ষ্মীজনার্দন মন্দির, পলাশী (ডেবরা), চিন্ময় দাশ, সব্যসাচী পত্রিকা, ২১.০৩.১৬

২। নুনের ব্যবসায়ী থেকে জনিদারীঃ পলাশী, নারায়ণ রুদাস

৩। পাঁশকুড়ার ইতিহাস ও ঐতিহ্য, রূপেশ কুমার সামন্ত

৪। ক্ষেত্রসমীক্ষা- ১৪.০৪.২৫

Monday, 4 October 2021

পাঁশকুড়া পৌরসভা জুড়ে কংসাবতীর ভাঙন প্রবনতা উত্তরোত্তর বাড়বে

পাঁশকুড়া পৌরসভা জুড়ে কংসাবতীর ভাঙন প্রবনতা উত্তরোত্তর বাড়বে- ঐতিহাসিক ভাবেই সত্য
©রূপেশ সামন্ত
আজ থেকে প্রায় সাড়ে তিনশো বছর আগেকার কথা। মহিষাদলের রাজ সিংহাসনে তখন রাজা কল্যান রায়। তিনি সিংহাসনে আরোহন করেছিলেন ১৬৫৩ খ্রিষ্টাব্দে। তখন কাশিজোড়া পরগনার (আধুনিক পাঁশকুড়া) সিংহাসনে আসীন ছিলেন রাজা প্রতাপনারায়ণ রায় (রাজত্বকাল ১৬২৪-১৬৬০)। মহিষাদলের রাজা কল্যান রায় ঘাঁটি গাড়লেন প্রতাপপুর-২ অঞ্চলের বর্তমান রায়বাঁধে। শয়ে শয়ে মানুষ শুরু করল খাল কাটতে। কংসাবতী নদীর চাঁপাডালির কাছ থেকে সেই খাল কেটে দক্ষিণ দিকে নিয়ে গিয়ে ফেলা হল হলদি নদীতে। মালীবুড়োর 'লস্কর দিঘির মালা' গ্রন্থে সেই দৃশ্যের সুন্দর বর্ণনা পাই। সেই খালটি রায়খালি বা নয়া কাটান নামে পরিচিত ছিল। উল্লেখ্য, কংসাবতী নদীর বর্তমান প্রবাহপথ, যা চাঁপাডালির পর থেকে দক্ষিণ দিকে রয়েছে, তা আজ থেকে ৩৫০ বছর আগে ছিল না। তখন কংসাবতী নদী চাঁপাডালি থেকে পূর্ব দিকে প্রতাপপুর, চাঁচিয়াড়া, আটবেড়িয়া, রঘুনাথবাড়ি, হরশংকর, টুল্যা, রাধামনির উপর দিয়ে গিয়ে বহু শাখায় বিভক্ত হয়ে তমলুকে রূপনারায়ণে পড়ত। এই নদীখাতটি বর্তমানে অবলুপ্ত। পুরানো মানচিত্রে এই নদীখাত 'ওল্ড বেড অফ কসাই' নামে উল্লিখিত। বর্তমানের উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণে এই মজা নদীখাতের অস্তিত্ব স্পষ্ট ভাবেই জানা যায়। এই নদীটিই এককালে বেহুলা, গৌরি, গাঁঙুড়া ইত্যাদি নামে পরিচিত ছিল। ©রূপেশ সামন্ত।
     মহিষাদলের রাজা খাল কেটে কংসাবতীর জল মহিষাদলে নিয়ে গিয়ে নিজের রাজ্যের জল-সমস্যা মেটালেও অন্য এক গভীর সংকট তৈরি করলেন। ভূ-প্রকৃতি গত ভাবে এতদঞ্চলের দক্ষিনাংশ ঢালু। ফলে কংসাবতীর বেশির ভাগ জল খাল দিয়েই প্রবাহিত হতে শুরু করল। ধীরে ধীরে খালটিই কংসাবতীর মূল প্রবাহ হয়ে গেল। আগের প্রবাহপ্রথটি মজা নদীতে পরিনত হতে থাকল। ধীরে ধীরে সে বেহুলা নামে ক্ষীণধারায় পরিনত হল। LSS O'Malley সাহেব তাঁর ১৯১১ সালের ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ারে ১০০ বছর আগেও বেহুলা বা গৌরি নদীর প্রবহমানতার কথা উল্লেখ করে গেছেন। অর্থাৎ ১৮১১ সালেও এই নদী ক্ষীণ হলেও প্রবহমান ছিল। ১৮৫২ সালে ব্রিটিশরা চাঁপাডালিতে বেহুলার মুখ স্থায়ী ভাবে বেঁধে দিল। এইভাবে সমাধিস্থ হল প্রকৃতির প্রবাহ পথের। 
    কংসাবতীর নিম্ন-প্রবাহপথের এই পরিবর্তনই হল প্রকৃতির উপর মানুষের হস্তক্ষেপের জ্বলন্ত উদাহরণ। খাল কেটে ও গতিপথে বাঁধ দিয়ে মানুষের হস্তক্ষেপে একটি নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে শুধু তাই নয়, তার মোহনাও পরিবর্তন হয়ে গেছে রূপনারায়ণ থেকে হলদি নদীতে। ©রূপেশ সামন্ত।
     প্রকৃতির উপর হস্তক্ষেপ প্রকৃতি কখনো মানবে না। সে বারবার জানানও দিচ্ছে। ভূ-প্রকৃতির নিয়মেই কংসাবতীর নিম্ন উপত্যকা ক্রমশ উঁচু হচ্ছে। কংসাবতী ফিরে পেতে চাইছে তার আদিপথ- বেহুলা নদীর পথে। বেহুলার উৎসমুখের এলাকা ডোমঘাঠ, রাণিহাটি, গড় পুরুষোত্তমপুর, চাঁপাডালি, জন্দরা, কল্লা, ভবানিপুর, তিলন্দপুর প্রভৃতি স্থানের ভাঙন প্রবনতা তাই বাড়ছে। অর্থাৎ পাঁশকুড়া পৌরসভার দক্ষিণ সীমানা বরাবর কংসাবতী নদীর বামতীর ভাঙনপ্রবন। আগামী দিনে এই প্রবনতা আরও বাড়বে। ২০১৩ সালে গড় পুরুষোত্তমপুরে ভাঙনের মাধ্যমে কংসাবতী তার প্রাচীন পথ ও রূপ দেখিয়ে দিয়েছে। কংসাবতীর প্রাচীন পথে আজ গড়ে উঠেছে কংক্রিটের নির্মান। নদীখাতকে গ্রাস করেছে মানুষ। সেদিন আর বেশি দূরে নয়, কংসাবতী গ্রাস করবে তার প্রাকৃতিক পথকে প্রাকৃতিক নিয়মেই। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির সূত্র মেনেই বেহুলা নদীর খাত ধরে পাঁশকুড়া ও তমলুকের একাংশকে একদিন গ্রাস করে নেবে কংসাবতী। সেদিন হয়তো মোহনার কাছের এই ভয়াল-ভয়ংকর কংসাবতী তথা প্রাচীন কপিশা নদীকে দেখবো। প্রকৃতির রুদ্র রূপের কাছে মানুষ বড়ই অসহায়। তার ধ্বংসলীলার কাছে মানুষ খড়-কুটোর মতো ভেসে যাবে একদিন। কংসাবতী ফিরিয়ে নেবে তার আদি প্রাকৃতিক পথ। ©রূপেশ সামন্ত
(এই প্রবন্ধের পরবর্তী অংশ, আরও বিস্তৃত বিশ্লেষণ, তথ্যসূত্র ও ছবি পাবেন আমার আগামী প্রকাশনায়। খুব শীঘ্রই প্রকাশিত হচ্ছে। দয়াকরে কেউ কপি-পেস্ট করবেন না। ভালো লাগলে শেয়ার করুন।)
©রূপেশ সামন্ত।

Tuesday, 31 August 2021

অপমানের জবাব দিতেই রাতারাতি তৈরি পাঁশকুড়ার প্রথম ছাপাখানা- History of Panskura

 

অপমানের জবাব দিতেই রাতারাতি তৈরি পাঁশকুড়ার প্রথম ছাপাখানা

©রূপেশ সামন্ত


পুস্তকঃ পাঁশকুড়ার স্বাধীনতা আন্দোলন ও রাজনৈতিক বিবর্তন”, লেখকঃ © রূপেশ সামন্ত

পাঁশকুড়ার এক ও অদ্বিতীয় ছাপাখানা ছিল সেটি। তৈরি হয়েছিল রাতারাতি। এক রজনীতে তৈরি হয়েছিল বলে নাম হয়েছিল ‘রজনী প্রেস’। পাঁশকুড়া স্টেশন বাজারের খিরিশতলার কাছে সেই প্রেসের পরিচিতির বিস্তার হলেও তার সৃষ্টি কিন্তু রাধাবল্লভচক গ্রামে। সেই ছাপাখানার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী রাখালচন্দ্র নায়ক। তিনি আগস্ট আন্দোলনকে সামনে রেখে রাসগাছতলায় যখন জমায়েত ও সভা করেছিলেন, তখন ব্রিটিশ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন বিচারে এক বছরের কারাদণ্ড হয়। এছাড়াও ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন চলাকালে কংগ্রেস পরিচালিত ‘বেঙ্গল ভলিউন্টারি’র সদস্য হিসাবে বাংলাদেশের ঢাকায় ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়েছিলেন। গ্রেপ্তার হয়ে জেলও খেটেছিলেন। ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৫২ সাল নাগাদ পাঁশকুড়া-১ ব্লকের রাধাবল্লভচক গ্রামের নিজের বাড়িতেই গড়েছিলেন ‘রজনী প্রেস’। পশ্চাতে রয়েছে এক রজনীতে ছাপাখানা তৈরির উপাখ্যানও।

     তৎকালীন সময়ে প্রেস বা ছাপাখানার কাজ হত মূলত তমলুকে। উল্লেখ্য, রাখালবাবু কলকাতায় কিছুদিন প্রেসের কর্মী হিসাবেও কাজ করেছেন। তিনি একদিন একটি বিল-বই ছাপানোর প্রয়োজনে তমলুকের একটি প্রেসে গিয়েছিলেন। সেখানে চারটাকা মূল্যের ছাপা-কাজের জন্য দশটাকা চেয়েছিল। রাখালবাবু প্রতিবাদ করায় তাঁকে প্রচুর অপমান করা হয়। সেই অপমানের জবাব দিতেই সেই রাতেই বাড়িতে গড়েছিলেন হস্তচালিত ছাপাখানা। এক রাতে বা এক রজনীতে তৈরি হওয়া প্রেসের নাম দিলেন ‘রজনী প্রেস’। স্বল্প খরচে গুনমান সম্পন্ন ছাপার কাজ হওয়ায় প্রেসটির ব্যবসায়িক সাফল্য চূড়ান্ত ছিল। উল্লেখ্য, যতদূর জানা যায়, ‘রজনী প্রেস’ হল ব্যবসায়িক ভিত্তিতে তৈরি পাঁশকুড়ার প্রথম প্রেস। পরবর্তীকালে প্রেসটি হস্তান্তরিত হয়ে পারিবারিক অন্য সদস্যের হাত ধরে পাঁশকুড়ার খিরিশতলায় স্থানান্তরিত হয়। সেই প্রেসের অস্তিত্ব আজ আর নেই।

     ইতিপূর্বে পরাধীন ভারতে বিংশ শতকের তিরিশ-চল্লিশের দশকে পাঁশকুড়ার স্বাধীনতা সংগ্রামীদের দ্বারা এখানকার দু’টি গ্রামে বুলেটিন ছাপার কাজ হত। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের প্রচার ও প্রসার করতে সংবাদ বুলেটিন প্রকাশ অত্যন্ত গূরুত্বপূর্ণ ছিল। এক্ষেত্রে পাঁশকুড়ার জোড়াপুকুর ছিল ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনকারীদের অন্যতম ঘাঁটি। জোড়াপুকুরে শ্যামাদাস ভট্টাচার্যের বাড়িতে গোপনে সাইক্লোস্টাইল যন্ত্রে বুলেটিন ছাপা হত। পাঁশকুড়ার বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী ইন্দুমতি ভট্টাচার্যের পুত্র কালিদাস ভট্টাচার্য জোড়াপুকুরের বাড়িতে অনেক দিন বুলেটিন ছাপার কাজ করেছেন। পাঁশকুড়ার প্রত্যন্ত কালিদান গ্রামেও সাইক্লোস্টাইলে বুলেটিন ছাপার কাজ হয়েছে। ব্রিটিশ পুলিশের চোখে ধূলো দিতে সাইক্লোস্টাইল যন্ত্র এক বাড়িতে বেশিদিন রাখা হত না। এইসব গোপন কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ইন্দুমতি ভট্টাচার্যের বাড়িতে পুলিশি অভিযানও হয়েছে। ‘স্মৃতিকনা’য় ইন্দুমতি দেবী তেমনই এক পুলিশি অভিযানের কথা লিখেছেন, ‘হঠাৎ দেখি অনেক লাল-পাগড়ি পরা পুলিশভর্তি একটা মোটর গাড়ি রাস্তায় থামল। ... ... ...

 

(আরও জানতে উৎসাহী পাঠকেরা নিম্নলিখিত পুস্তকটি অনুসরণ করতে পারেন। কেউ কপি-পেস্ট করবেন না। ভালো লাগলে শেয়ার করতে পারেন।)

পুস্তকঃ পাঁশকুড়ার স্বাধীনতা আন্দোলন ও রাজনৈতিক বিবর্তন

লেখকঃ © রূপেশ সামন্ত

প্রাপ্তিস্থান- দীপিকা বুক স্টল, পাঁশকুড়া স্টেশন।

For Online Booking, Whatsapp- 9153099507

Monday, 16 August 2021

পাঁশকুড়ার স্বাধীনতা আন্দোলন ও রাজনৈতিক বিবর্তন

https://public.app/video/sp_rr1u32ss1syxe https://public.app/video/sp_rr1u32ss1syxe

পাঁশকুড়ার স্বাধীনতা আন্দোলন ও রাজনৈতিক বিবর্তন Freedom Movement of Panskura and Its Political Evolution



 https://www.unfoldbangla.com/finally-the-history-of-the-independence-movement-of-panskura-was-published/article/

পাঁশকুড়ার স্বাধীনতা আন্দোলন ও রাজনৈতিক বিবর্তন Freedom Movement of Panskura and Its Political Evolution

 

পাঁশকুড়ার স্বাধীনতা আন্দোলন ও রাজনৈতিক বিবর্তন Freedom Movement of Panskura and Its Political Evolution

 

https://www.deshmanus.com/2021/08/%20Published-Panskura-Freedom-Movement-History.html








পাঁশকুড়ার স্বাধীনতা আন্দোলন ও রাজনৈতিক বিবর্তন Freedom Movement of Panskura and Its Political Evolution

 

https://l.facebook.com/l.php?u=https%3A%2F%2Ffb.watch%2F7q7_Py3se_%2F%3Ffbclid%3DIwAR0qUop2fHjmd58A0hLPCRHBcrmfwz66v1D7l7vNJfq6MpfiaUDvK5vbQjc&h=AT29IW1z9UQu_Kn1VwkJI_9yaK6eM31ojDPWkri4elWYjXrs5mtSEU2iKL9XRw0rY1vnMGoK0kH1wmpY6vbPOubgcBfw1MqQF0da3c8ZClSvlbZA0IH43zevhKN_eDjO9N8&__tn__=-UK-R&c[0]=AT11YIqcI6Hk4LXEIMj7QbjzzJaC6M4lOROG3HouqRGp_VCEWUu61UMI8n4E3F-MNi_Lrsl05BdeDCvjyRjCWFUSl6MnrK9Gf4Zwcq6NluTBLPobZS8xPYSrGksr7c_FycQWOhi5WubYalYpdYzP5dYgX_hiclhW78IEDQzGKlajdBXqlGnD8WFE8lzTs2ny8kn5deegdZTSUWDpDxBRcio5XlRs92FOUN75qA

Tuesday, 10 August 2021

Freedom Movement of Panskura and Its Evolution


 পাঁশকুড়ায় আগস্ট আন্দোলন (স্বাধীনতার পঁচাত্তরে- পর্ব ১)

১৯৪২ সালের ৯ আগষ্ট কংগ্রেসের তরফে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। গান্ধিজী ডাক দিলেন, ‘Do or Die’। মেদিনীপুর জেলায় এই আগস্ট আন্দোলন বা ভারত ছাড়ো আন্দোলন এক গনবিদ্রোহের চেহারা নেয়। কংগ্রেস বে-আইনী ঘোষিত থাকায় নিষিদ্ধ হয় সভা, সমিতি ও শোভাযাত্রা। প্রায় সমস্ত প্রথম সারির নেতারা গ্রেপ্তার হয়ে যায়। ফলে গোটা দেশের সঙ্গে পাঁশকুড়াতেও এই আন্দোলন ধাক্কা খায়। নেতৃবর্গ কারাগারের অন্তরালে থাকায় বা নেতৃত্বের অভাবে পাঁশকুড়ায় এই আন্দোলন স্বাভাবিক গতি লাভ করতে পারেনি। ১৯৪২ সালে গ্রেপ্তার হয়ে যান পাঁশকুড়ার চৈতন্যপুর-১ অঞ্চলের কালই গ্রামের ‘সন্ন্যাসী পুরুষ’ রজনীকান্ত প্রামানিক। জেলে বন্দী থাকেন ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত। জোড়াপুকুরের মহীয়সী নারী ইন্দুমতি ভট্টাচার্য বা তাঁর ছেলে শ্যামাদাস ভট্টাচার্যের মতো নেতৃত্ব শারীরিক ও ব্যক্তিগত কারনে এই আন্দোলন থেকে বিরত থেকে ছিলেন। কোলাঘাটের রাধাগোবিন্দ চক্রবর্তী ও তাঁর স্ত্রী বিভারাণী চক্রবর্তী আগস্ট আন্দোলনে যোগদান করে প্রচুর অত্যচার ও নির্যাতনের শিকার হন। কোলাঘাটে গোবিন্দ চক্রবর্তীর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। তিনি কলকাতায় আত্মগোপন করেন। কিন্তু তিনি গ্রেপ্তার হয়ে যান। রাধাবল্লভচক গ্রামের রাখালচন্দ্র নায়ক রাসগাছতলায় আগস্ট আন্দোলনকে সামনে রেখে জমায়েত ও সভা করেছিলেন। সভা চলাকালীন সময়ে রাখালচন্দ্র নায়কও গ্রেপ্তার হয়ে যান। বিচারে এক বছরের কারাদণ্ড হয়। উল্লেখযোগ্য নেতৃত্বের অংশগ্রহন না থাকলেও পাঁশকুড়ায় আগস্ট আন্দোলন থেমে থাকেনি। সেই আন্দোলনের স্বাভাবিক গতি বজায় না থাকলেও ১৯৪২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর পাঁশকুড়ায় রাস্তা অবরোধের দুর্ধর্ষ রাত ও ২৯ সেপ্টেম্বর পাঁশকুড়া থানা অভিযানের রোমহর্ষক কর্মসূচি ‘তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার’ প্রতিষ্ঠায় গূরুত্বপূর্ণ মাইলষ্টোন হিসাবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। ২৮ সেপ্টেম্বরের রাত্রে পাঁশকুড়ায় উড়িয়ে দেওয়া হয় কালভার্ট, কেটে দেওয়া হয় রাস্তা, উপড়ে ফেলা হয় টেলিগ্রাফ পোস্ট। .... ... (ক্রমশ...)


[আসছে ...// ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ ও বিশ্লেষন সমন্বিত বইঃ “পাঁশকুড়ার স্বাধীনতা আন্দোলন ও রাজনৈতিক বিবর্তন” © রূপেশ সামন্ত // প্রকাশিত হবেঃ ১৫ আগস্ট, ২০২১]

Freedom Movement of Panskura and Its Evolution


পাঁশকুড়ায় বিপ্লবীদের গোপন ছাপাখানা (স্বাধীনতার পঁচাত্তরে- ২)
পুস্তকঃ “পাঁশকুড়ার স্বাধীনতা আন্দোলন ও রাজনৈতিক বিবর্তন”
লেখকঃ © রূপেশ সামন্ত
      ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে অসহযোগ আন্দোলনের পরে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম অহিংস গন-আন্দোলন হল আইন অমান্য আন্দোলন। ১৯৩০ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে গান্ধীজী ‘ইয়ং ইণ্ডিয়া’ পত্রিকায় আইন অমান্য আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষনা করেন। সারা ভারত বর্ষের সঙ্গে আইন অমান্য আন্দোলনের ঢেউ আছড়ে পড়ে পাঁশকুড়ায়। যে কোন আন্দোলন-সংগ্রাম পরিচালনায় বিপ্লবীদের মধ্যে সংবাদ আদান-প্রদান এবং সাধারন জনগনকে সংগ্রামী-বার্তা পৌঁছে দেওয়া একটি গূরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাই ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনকে প্রসারিত ও প্রজ্জ্বলিত করতে সংবাদ বুলেটিন প্রকাশ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে। উল্লেখ্য, পাঁশকুড়ার জোড়াপুকুর ছিল ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনকারীদের অন্যতম ঘাঁটি। এই জোড়াপুকুরে কাটিয়ে গেছেন বিপ্লবী হেমচন্দ্র কানুনগো। এই জোড়াপুকুরেই বসবাস করতেন পাঁশকুড়ার স্বাধীনতা আন্দোলনের চিরস্মরণীয় মহীয়সী নারী ইন্দুমতি ভট্টাচার্য। একই বাড়িতে থাকতেন দুই স্বাধীনতা সংগ্রামী ছেলে শ্যামাদাস ভট্টাচার্য ও কালিদাস ভট্টাচার্য। ইন্দুমতি দেবীর স্বামী সুরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যও স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন। জোড়াপুকুরের ভট্টাচার্য পরিবারকে কেন্দ্র করেই তৎকালীন সময়ে পাঁশকুড়ার স্বাধীনতা আন্দোলন বিকশিত হয়েছিল। স্বাভাবিক ভাবেই বার্তা প্রচারের উদ্দেশ্যে ইন্দুমতি ভট্টাচার্যের বাড়িতে গোপনে সংবাদ বুলেটিন ছাপা হত। বুলেটিনে আন্দোলন-কর্মসূচির কথা থাকতো। তৎকালীন সময়ে সাইক্লোস্টাইল নামক যন্ত্রে ছাপানোর কাজ হত। ইন্দুমতি দেবীর ছেলে কালিদাস ভট্টাচার্য অনেক দিন সেই বুলেটিন ছাপার কাজ করেছেন। ব্রিটিশ পুলিশকে লুকিয়ে বুলেটিন ছাপতে হত, মানুষের কাছে পৌঁছাতে হত বা পড়তে হত। ব্রিটিশ পুলিশের চোখে ধূলো দিতে সাইক্লোস্টাইল যন্ত্র এক বাড়িতে বেশিদিন রাখা হত না। এইসব গোপন কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ভট্টাচার্য পরিবারে পুলিশি অভিযানও হয়েছে। একদিন লাল-পাগড়ি পরা পুলিশভর্তি একটা মোটর গাড়ি ইন্দুমতি দেবীর বাড়ির সামনে রাস্তায় থামল। ... ... (পরবর্তী অংশের জন্য উৎসাহী পাঠকেরা নিম্নলিখিত পুস্তকটি অনুসরণ করতে পারেন।)

পুস্তকঃ “পাঁশকুড়ার স্বাধীনতা আন্দোলন ও রাজনৈতিক বিবর্তন” 
লেখকঃ © রূপেশ সামন্ত
প্রকাশিত হবেঃ আগামী ১৫ আগস্ট, ২০২১

পর্ব-১ লিংকঃ https://www.facebook.com/permalink.php?story_fbid=225030076294246&id=100063617654951&notif_id=1628495142375246&notif_t=feedback_reaction_generic&ref=notif

বাংলাদেশের ভারত বিরোধিতা: আবেগ না রাষ্ট্রবুদ্ধি?

বাংলাদেশের ভারত বিরোধিতা: আবেগ না রাষ্ট্রবুদ্ধি? ✍️ রূপেশ কুমার সামন্ত  বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে সাম্প্রতিক কালে ভা...